ব্যুরো নিউজ, ৫ অক্টোবর ২০২৬: উপনির্বাচনের আগে রবিবার শেষ প্রচারের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ১০ মার্চকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ ঘোষণার দাবি তুলে তিনি বলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর পা-এর চোট ছিল সম্পূর্ণ ‘সাজানো নাটক’। শুভেন্দু অধিকারী এদিন নন্দীগ্রামের মিছিল থেকে দাবি করেন, চিকিৎসকদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে বা সফট টিস্যুতে আদতে কোনও গুরুতর আঘাতই লাগেনি।
তিনি কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন তোলেন, “মার্চের ১০ তারিখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করলে কেমন হয়?” তাঁর দাবি, প্রাপ্ত কাগজপত্র অনুযায়ী হাড়ে তো দূরের কথা, কোনও মাংসপেশিতেও আঘাত লাগার প্রমাণ মেলেনি। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে পা-এ চোট পাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্লাস্টার ও ব্যান্ডেজ পরে হুইলচেয়ারে বসে প্রচার করতে দেখা যায়। সেই সময় রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। তবে সম্প্রতি বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের দুটি রেডিওলজি রিপোর্ট সামনে এসেছে। ওই রিপোর্টগুলির প্রতিলিপি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁ হাঁটুতে হাড় ভাঙা বা সন্ধি সরে যাওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। নরম টিস্যুও মোটের উপর স্বাভাবিক ছিল। এই ইস্যুতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছেন।
তিনি বলেন, “সেদিন চোটের ভান করে ‘খেলা হবে’ বার্তা দেওয়া হয়েছিল। জয়ের পরপরই সেই ব্যান্ডেজ রাতারাতি খোলা হয়।” চিকিৎসকদের রিপোর্ট প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তাঁর হাড় বা টিস্যুতে কোনও চোটই ছিল না। সবমিলিয়ে, উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে এই ইস্যু নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।








