ব্যুরো নিউজ, ১৭ জুলাই ২০২৬ : তেলেঙ্গানার সায়ীদাবাদের ‘সাকসেস, দ্য স্কুল’-এ দ্বিতীয় শ্রেণির এক হিন্দু পড়ুয়াকে ইসলামিক বিষয়ভিত্তিক বাড়ির কাজ (হোমওয়ার্ক) দেওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শেখ আয়েশা পারভীন নামের ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি এক হিন্দু শিক্ষার্থীকে স্কুলের পড়াশোনার অংশ হিসেবে কালিমা ও সূরা ফাতিহা পাঠ করার হোমওয়ার্ক দিয়েছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। পড়ুয়ার অভিভাবকেরা বিষয়টি জানতে পেরে অবিলম্বে স্কুলে এসে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানান।
তাঁরা অভিযোগ করেন যে, এই ধরনের ধর্মীয় নির্দেশ উপযুক্ত নয় এবং তাঁদের সন্তানের উপর এটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির ভিত্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গত বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষিকা শেখ আয়েশা পারভীনকে বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দেয়। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তিনি ভবিষ্যতে ‘সাকসেস গ্রুপ অফ এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস’-এ চাকরির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা তাঁর এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করে দাবি করেন যে, তাঁর হস্তক্ষেপেই স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, হায়দ্রাবাদের এক স্কুল শিক্ষিকা একটি হিন্দু শিশুকে ইসলামিক প্রার্থনা বলতে বাধ্য করার জোরপূর্বক কার্যকলাপ ফাঁস করার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ বরখাস্তের চিঠি প্রকাশ করা ছাড়া এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। এই ঘটনা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।








