নদিয়াব্যুরো নিউজ, ১৮ জুন ২০২৬ : র সরাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রকাশ্যে এল এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির ঘটনা, যা রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। চরসরাটি এলাকার বাসিন্দা নরেন ঘোষ নামে এক ব্যক্তি গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত বিধবা ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজ্যে এর আগে ‘পুরুষ লক্ষ্মী’র ঘটনার পর এবার ‘পুরুষ বিধবা’র হদিশ মেলায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সরকারি প্রকল্পের তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, নরেন ঘোষ নামে ওই ব্যক্তি পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে বিধবা ভাতার টাকা জমা পড়ছে এবং তিনি তা নিয়মিত তুলে নিচ্ছেন। এই নজিরবিহীন দুর্নীতির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। সরাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বৈদ্যনাথ দাসকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপপ্রধান বৈদ্যনাথ দাস সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বলে আক্রমণ করেন এবং নোংরা, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। দুর্নীতির দায় এড়াতে তিনি পঞ্চায়েতের কোনও ভুল নেই বলে দাবি করেন। বৈদ্যনাথ দাসের যুক্তি, এই ঘটনার জন্য বিডিও অফিস দায়ী।
আবেদনপত্র যাচাই বা স্ক্রুটিনির ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকদের গাফিলতি ছিল বলেই এই ভুল হয়েছে। তাঁর মতে, পঞ্চায়েতের তরফে কোনও ত্রুটি ছিল না, বরং বিডিও অফিসের আধিকারিকরাই এই ত্রুটির জন্য দায়ী। এই ঘটনা সামনে আসার পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে একজন পুরুষ পাঁচ বছর ধরে বিধবা ভাতা পেতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার জেরে পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি প্রকল্পের রূপায়ণ এবং তদারকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, যা প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াচ্ছে।







