ব্যুরো নিউজ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর বহুচর্চিত এই উপনির্বাচনের আগে ১৯ বছরের পুরনো একাধিক ফৌজদারি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে পুলিশ মিলন প্রধানকে আটক করে। এরপর সোমবার হলদিয়া ও কাঁথি – দুই পৃথক আদালতের নির্দেশে তাঁর জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, যা ভোটের আগে কংগ্রেস প্রার্থীর জন্য বড় ধাক্কা।
সোমবার হলদিয়া জেল থেকেই ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেন মিলন প্রধান। হলদিয়া ও নন্দীগ্রাম থানার পুরনো মামলার প্রেক্ষিতে বিচারক তাঁকে আগামী ৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। অর্থাৎ, ভোটের ঠিক আগের দিন পর্যন্ত তাঁকে জেলেই থাকতে হবে। অন্যদিকে, কাঁথি মহকুমা আদালত খেজুরি থানার একটি মামলার প্রেক্ষিতে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন পর্বের একটি খুনের মামলা, খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইন, লুটপাট সহ মোট ৫টি ঝুলন্ত ওয়ারেন্ট ছিল মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে। ঘটনাচক্রে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর আইনজীবী মাসুদ মল্লিক জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি সক্রিয় মামলা বা জামিন অযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তার সঠিক তালিকা পেতে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার হাইকোর্টে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মিলন প্রধানের নির্বাচনী প্রচার কার্যত থমকে গেছে।








