মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই আইপ্যাকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক হুগলির প্রবীণ তৃণমূল নেতা রাম চক্রবর্তী

হুগলির চন্দননগরের প্রাক্তন মেয়র রাম চক্রবর্তী পদত্যাগ করে আইপ্যাক ও দলের একাংশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন। বিধানসভা ভোটের ফল বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রকাশ্যে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩১ মে ২০২৬ঃ হুগলির চন্দননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা রাম চক্রবর্তী। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দলের অন্দরের ভুলভ্রান্তি এবং কিছু নেতার ঔদ্ধত্যকেই দায়ী করেছেন তিনি। একইসঙ্গে দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন এই মেয়র। গত শুক্রবার রাম চক্রবর্তী-সহ ২৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করার পর চন্দননগরের পুরবোর্ড ভেঙে যায়। এরপরই দলের একাংশ এবং দলীয় নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

রাম চক্রবর্তীর অভিযোগ, আইপ্যাকের উপর চোখ বুজে ভরসা করাই মস্ত ভুল হয়েছে। তাঁর কথায়, “আইপ্যাকের কাজ কী, তা এখনও বুঝতে পারিনি। তারা বারবার একই প্রশ্ন করে। আমাদের থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করলেও তা দিয়ে কী করেছে, জানি না। প্রার্থী সম্পর্কে মানুষের ক্ষোভ ছিল, যা আইপ্যাক দলীয় নেতৃত্বকে জানায়নি।” তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের ভাবমূর্তি খারাপ হয়ে গিয়েছিল, যার প্রভাব ভোটে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল আইপ্যাককে নিয়োগ করেছিল। সাম্প্রতিক ভোটের ফল বিপর্যয়ের পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং বিবেক গুপ্তর মতো একাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রী আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাককে দলের ‘সর্বনাশ’ এর কারণ বলেছেন, অন্যদিকে বিবেক গুপ্ত আইপ্যাকের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তুলেছেন। রাম চক্রবর্তী চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের নেতৃত্ব নিয়েও সরব হয়েছেন, যা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে তাঁর মত।