১০০ দিনের মজুর থেকে যুগ্ম বিডিও, বীরভূমের সৌরভ পালের অদম্য জেদ ও সাফল্যের কাহিনি

দারিদ্র্যকে জয় করে ১০০ দিনের মজুর থেকে যুগ্ম বিডিও হলেন বীরভূমের সৌরভ পাল। তাঁর অদম্য জেদ ও পরিশ্রমের কাহিনি আজ অনুপ্রেরণা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ জুলাই ২০২৬ : মুর্শিদাবাদের তেঁতুলিয়া গ্রামের এক প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসে বীরভূমের দুবরাজপুরের যুগ্ম বিডিও পদে আসীন হয়েছেন সৌরভ পাল। একসময় চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে ১০০ দিনের কাজের মজুর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। আজ সেই প্রকল্পেরই (এখনকার VB-G RAM G) ব্লক নোডাল অফিসারের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে।

সৌরভের এই অদম্য জেদ ও পরিশ্রমের কাহিনি আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই অভাব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। বাবার ছোট্ট চায়ের দোকান থেকে যা আয় হতো, তাতে সংসার চালানো কঠিন ছিল। একবেলা খাবার জুটলেও, পরের বেলার চিন্তা লেগে থাকত। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন সৌরভ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ও তিনি ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর পাড়ার শিক্ষক শ্যামসুন্দর প্রামাণিকের অনুপ্রেরণায় ডব্লিউবিসিএস (WBCS) পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। সংসারের হাল ধরতে প্রথমে গ্রামীণ ডাক সেবক, পরে বন বিভাগের ক্লার্ক পদে যোগ দেন সৌরভ। এই সময়েই তিনি শ্যামসুন্দরবাবুর কাছে কোচিং নিতে প্রতি সপ্তাহে মুর্শিদাবাদে ফিরতেন।

২০২২ সালের ডব্লিউবিসিএস-এর ‘গ্রুপ সি’ পরীক্ষায় সফল হন তিনি। বীরভূমের ডিএফও রাহুল কুমার তাঁকে ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে সাহায্য করেন। অবশেষে, দুবরাজপুরে যুগ্ম বিডিও পদে নিযুক্ত হন সৌরভ পাল। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে জীবনের যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। সৌরভ চান, সরকারি প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি হোক।