ব্যুরো নিউজ, ১৫ জুন ২০২৬ঃ নন্দীগ্রামের জনকল্যাণ শিবিরের মঞ্চ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদ এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, যারা ‘বন্দে মাতরম’ বা জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে অনীহা প্রকাশ করেন, তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত।
তিনি বলেন, “কিছু মানুষ তাদের সন্তানদের টিকা দেয় না। তারা সন্তানদের সরকারি স্কুলেও ভর্তি করায় না। বরং এমন প্রতিষ্ঠানে পাঠায় যেখানে বন্দে মাতরম বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না। তাহলে তারা কেন সরকারি সুবিধা পাবে?” বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের সরকারি সুবিধা প্রাপ্তির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত নাগরিকদের জন্য হওয়া উচিত। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই চাইবেন না যে বাংলাদেশ থেকে কেউ এসে এখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করুক।” সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু।
তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস জনগণের টাকা লুট করেছে। বিধবা ভাতা পুরুষদের নামে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে ৩,৫০০টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ধরা পড়েছে।” একইসঙ্গে, রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্পগুলির অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাওয়ার কথা জানান। এছাড়াও, আগামী ১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প শুরু হওয়ার ঘোষণা করেন, যার জন্য ৮,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উপরও জোর দেন শুভেন্দু অধিকারী।







