ব্যুরো নিউজ, ২৭ জুন ২০২৬ঃ রাজ্যের একাধিক সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অনুপস্থিতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের চেয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই বেশি সক্রিয় ছিলেন। ভোট মিটতেই তাঁদের অনেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত, কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউ আবার আত্মগোপন করে আছেন। এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়ে সরব হয়েছে ছাত্র সংগঠন এবিভিপি।
নন্দীগ্রামের সীতানন্দ কলেজের স্টেট এডেড কলেজ টিচার (SACT) বাপ্পাদিত্য গর্গের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কলেজে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বোমাবাজির ঘটনায় এনআইএ-র দায়ের করা মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। ৪ মে-র পর থেকে তাঁকে আর কলেজে দেখা যায়নি। এবিভিপির দাবি, বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই অভিযোগ মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজের দুই স্থায়ী গ্রুপ-ডি কর্মী মহাদেব মাইতি ও সন্দীপ জানাকে ঘিরেও। দু’জনেই তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মহাদেব মাইতির বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চার্জশিট জমা পড়েছে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই দুই কর্মী কলেজে অনুপস্থিত। ২ জুন সন্দীপ জানাকে গ্রেপ্তার করা হলেও মহাদেব মাইতি এখনও অধরা। অভিযোগ, অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। এবিভিপি এই বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের নন্দীগ্রাম কলেজ ইউনিটের সহ-সভাপতি সায়ন প্রামাণিক দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজের প্রিন্সিপাল স্বপন মিশ্রও কর্মীদের অনুপস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। শিক্ষা মহলের নজর এখন কলেজ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকে।








