রাজ্যের ৩৩৩৯ পঞ্চায়েতে দুর্নীতির খোঁজে বিশেষ অডিট, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পঞ্চায়েত মন্ত্রীর

রাজ্যের ৩৩৩৯ পঞ্চায়েতে দুর্নীতির খোঁজে বিশেষ অডিট শুরু। পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কড়া হুঁশিয়ারি, দোষীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২০ মে ২০২৬ঃ রাজ্যের ৩৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের আর্থিক লেনদেন এবার কড়া নজরদারির আওতায়। তৃণমূল জমানায় পঞ্চায়েত স্তরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের পর এবার বিশেষ অডিটের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। ১০০ দিনের কাজ সহ গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল আগেই, যার জেরে কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। সূত্রের খবর, এবার সেই টাকা ধীরে ধীরে আসতে শুরু করলেও, বিগত দিনের দুর্নীতির ক্ষেত্রে ‘ডবল ইঞ্জিন রাজ্য’ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরের তরফে আর্থিক লেনদেনের তথ্য তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পঞ্চায়েত প্রধান, জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রভৃতির একটি বড়ো অংশ এক একটা দুর্নীতির প্রতিমূর্তি। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।” তিনি আরও বলেন, স্যাম্পেল সার্ভের পর প্রতিটি পঞ্চায়েতে স্পেশাল অডিট করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান থেকে শুরু করে অফিসার, বিডিও পর্যন্ত যাদেরকেই দোষী হিসাবে পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য সবথেকে বেশি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কেন্দ্র টাকা দেওয়া বন্ধ করায় রাজ্য সরকার জবকার্ড হোল্ডারদের বকেয়া মেটানো, বাংলার বাড়ি, পথশ্রী প্রকল্পের রূপায়ণ করত।

এছাড়া স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং অর্থ কমিশনের টাকাও তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অনেক ক্ষেত্রেই সদ্য নির্মিত রাস্তার পিচ উঠে যাওয়া বা সুবিধা পেতে কাট মানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের থেকে কাজের বরাত দিতে টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, বা উপভোক্তাদের থেকে সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি চার ডিজিটের হেল্পলাইন নম্বরও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ আধিকারিকদের নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে এবং তাদের রিপোর্ট নবান্নে জমা পড়বে।