কেউটের ছোবল খেয়েও জীবন্ত সাপ ধরে হাসপাতালে গৃহবধূ, সাহসিকতায় মুগ্ধ সকলে

কেউটের ছোবল খেয়েও জীবন্ত সাপ ধরে হাসপাতালে ছুটলেন গৃহবধূ সন্ধ্যা বিশ্বাস। দ্রুত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ, সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ ২২ অক্টোবর ২০২৬:

দশমীর রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার অন্তর্গত ঘুটিয়ারী শরীফের গৌড়দহ এলাকায়। বিষধর কেউটে সাপের ছোবল খেয়েও সাহসিকতার পরিচয় দিলেন সন্ধ্যা বিশ্বাস নামে এক গৃহবধূ। বর্তমানে চিকিৎসার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তাঁর এই সাহসিকতার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে ঘুমানোর জন্য খাটে উঠতে যাচ্ছিলেন সন্ধ্যাদেবী। সেই সময় আচমকাই একটি বিষধর কেউটে সাপ তাঁর বাম পায়ে ছোবল মারে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি সাপটিকে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঘুটিয়ারী শরীফ ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে।

হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসক ডাঃ সমরেন্দ্রনাথ রায় দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-ভেনম এবং অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন সন্ধ্যাদেবী। চিকিৎসা শেষে তিনি বিপদমুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে চিকিৎসক ডাঃ সমরেন্দ্রনাথ রায় বলেন, সাপে কাটলে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে পৌঁছনো জরুরি। সাপকে ধরে বা মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসার কোনও প্রয়োজন নেই। সম্ভব হলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে সাপটির ছবি তোলা যেতে পারে। তবে ছবি তুলতে গিয়ে কোনওভাবেই ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে রাতে বাড়ির আশপাশে চলাফেরা করার সময় টর্চলাইট ব্যবহার করা উচিত। এতে সাপের মতো বিপজ্জনক প্রাণী দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

সন্ধ্যা বিশ্বাসের দ্রুত চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সাপে কাটলে সাহসের পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।