৩৫০ বছরের কালীপুজো: পুকুরে তলিয়ে গিয়েও অলৌকিকভাবে ফিরে এলেন কল্যাণী

দুর্গাপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির ৩৫০ বছরের কালীপুজো। পুকুরে তলিয়ে গিয়েও অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছিলেন কল্যাণী, তারপরই শুরু হয় মায়ের আরধনা। জানুন সেই কাহিনি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১ নভেম্বর ২০২৬: দুর্গাপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরোনো এক কালীপুজোর কাহিনি আজও মানুষের মনে বিস্ময় জাগায়।

এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পুজো শুরু হয়েছিল এক অলৌকিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। বাড়ির মেয়ে কল্যাণী বন্দ্যোপাধ্যায় একদিন তামলা পুকুরে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। স্থানীয়রা যখন পুকুর কাটার সিদ্ধান্ত নেন, ঠিক তখনই ঘটে সেই আশ্চর্য ঘটনা। পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদেশ পান যে পুকুর কাটতে হবে না, কল্যাণী নিজেই উঠে আসবেন।

সেই রাতেই গ্রামের এক ঢাকবাদক বেণী বাদ্যকরও দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে এই বাড়ির কালীপুজোয় ঢাক বাজাতে হবে। পরের দিন সকালে দেখা যায়, হাতে একটি জলভর্তি কলস নিয়ে পুকুর থেকে উঠে আসছেন কল্যাণী। সেই কলসটি বাড়ির মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং শুরু হয় কলস পুজো। পরে সেখানে কালীমূর্তি স্থাপন করে দেবীর আরাধনা শুরু হয়।

আজও সেই প্রথা মেনে চলেছেন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। মন্দিরের দেওয়ালে সেই অলৌকিক ঘটনার ছবি আঁকা রয়েছে, যেখানে দেখা যায় কল্যাণী জল থেকে উঠে আসছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, সাড়ে তিনশো বছর আগের সেই কলসটি আজও মন্দিরে সযত্নে রাখা আছে এবং তার জল আজও আগের মতোই ভর্তি।

বেণী বাদ্যকরের বংশধরেরা আজও বিনা পারিশ্রমিকে ঢাক বাজান। প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ এই পুজোর প্রসাদ গ্রহণ করেন। পরিবারের বিশ্বাস, বাড়ির মেয়ে মা কল্যাণীই এই পুজোর সমস্ত ব্যবস্থা করেন।