৫০ কেজির রুপোর পালকিতে নবপত্রিকা: বাঁকুড়ার অযোধ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোর দু’শো বছরের ঐতিহ্য

বাঁকুড়ার অযোধ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় ৫০ কেজির রুপোর পালকিতে আসে নবপত্রিকা। প্রায় দু'শো বছরের এই ঐতিহ্য আজও অমলিন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৪ অক্টোবর ২০২৬: বাঁকুড়ার অযোধ্যা গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো আজও তার প্রায় দু’শো বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। সময়ের সঙ্গে আভিজাত্যের জৌলুস কিছুটা ফিকে হয়ে গেলেও এই পুজোর বিশেষত্ব আজও অমলিন।

প্রতি বছর মহা সমারোহে ৫০ কেজির একটি রুপোর পালকিতে সওয়ার হয়ে ঠাকুরদালানে প্রবেশ করে নবপত্রিকা। এই অনন্য দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভিড় জমান বহু মানুষ, যা এই পুজোর প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রমাণ।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, ১৮২৮ সালে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যানের মাধ্যমে। শ্রীরামপুরের এক নীলকর সাহেব যখন মৃত্যুশয্যায়, তখন বন্দ্যোপাধ্যায় বংশের রামমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় পরম নিষ্ঠায় তাঁর সেবা করেছিলেন। কৃতজ্ঞ সাহেব মৃত্যুর আগে রামমোহনের হাতে তুলে দেন বিপুল ধনরত্ন। সেই অর্থ অযোধ্যায় পাঠিয়ে তাঁর দাদা কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক মৌজায় জমিদারি পত্তন করেন এবং এই বিশাল পুজোর আয়োজন করেন। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে কাছারি বাড়ি, ঠাকুরদালান, নাটমন্দির, রাসমঞ্চ এবং সারিবদ্ধ ১২টি শিবমন্দির।

তবে এই পুজোর সূচনার পিছনে রয়েছে একটি পারিবারিক ঘটনা। গ্রামের সার্বজনীন পুজো দেখতে গিয়ে ভিড়ের চাপে দেবী আরাধনায় বাধা পেয়েছিলেন জমিদার গিন্নি। সেই আক্ষেপ মেটাতেই প্রাসাদের অভ্যন্তরে শুরু হয় নিজস্ব দুর্গাপুজো। নীলকর সাহেবের দেওয়া অর্থেই এই বিশাল জমিদার বাড়ি ও পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল।

ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক কাছারি বাড়ি আজ ধ্বংসের প্রহর গুনলেও, বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজোর এই বিশেষ ঐতিহ্য আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা এলাকার মানুষের কাছে এক গর্বের বিষয় এবং এক অনন্য ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার।