বীরভূমের নলহাটিতে দুই বোনের দুর্গা পুজো: সিংহবাহিনী ও দশভুজার প্রাচীন আরাধনা

বীরভূমের নলহাটির বাউটিয়া গ্রামে পালিত হয় সিংহবাহিনী ও দশভুজা দুর্গা পুজো। একই পরিবারের দুই বোন রূপে আরাধ্যা এই দুই দেবী। জানুন এই প্রাচীন পুজোর বিশেষত্ব।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১১ অক্টোবর ২০২৬: বীরভূমের নলহাটি থানার বাউটিয়া গ্রাম প্রতি বছর দুর্গাপূজায় এক বিশেষ ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকে। এই গ্রামে একই পরিবারের দুই বোন রূপে আরাধ্যা হন মা সিংহবাহিনী ও মা দশভুজা।

আধুনিক জাঁকজমক ও থিমের প্রতিযোগিতা থেকে দূরে, বংশপরম্পরায় চলে আসা প্রাচীন রীতিনীতি ও পারিবারিক বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে এই দুই পুজো বাউটিয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই পুজো দুটি গ্রামের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের এক প্রান্তে চ্যাটার্জি পরিবারের সিংহবাহিনী দুর্গা, অন্য প্রান্তে ওঝা পরিবারের দশভুজা। প্রায় ৫০০ মিটারের ব্যবধানে দুই পাড়ায় দেবীর আরাধনা ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের এক ভিন্ন আবহ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই দুই দেবী আসলে একই পরিবারের দুই বোন, তাই পুজো আলাদা হলেও আবেগের বন্ধনে তাঁদের একাত্ম করে দেখেন গ্রামের মানুষ। এই আত্মিক বন্ধনই বাউটিয়ার এই দুই পুজোর আসল আকর্ষণ।

চ্যাটার্জি পরিবারের সিংহবাহিনী পুজোয় বেলুড় মঠের পঞ্জিকা অনুসরণ করা হয়, যা এই পুজোর প্রাচীনত্ব ও নিষ্ঠার পরিচায়ক। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানেই প্রাচীন বিধি মেনে চলা হয়। এই দুই পুজো কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাউটিয়া গ্রামের মানুষের আত্মিক বন্ধন ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।

প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ এই দুই দেবীর আরাধনা দেখতে ভিড় করেন, যা এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। এই প্রাচীন রীতি মেনে চলা পুজো দুটি আজও গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে সগৌরবে বহন করে চলেছে।