পশ্চিমবঙ্গের সিলেবাসে ঐতিহাসিক বদল, বাদ পড়তে পারে সিঙ্গুর আন্দোলন ও মুঘল ইতিহাস!

পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সিলেবাসে আসছে বড় বদল। নবগঠিত সরকার সিঙ্গুর আন্দোলন ও মুঘল ইতিহাসের কিছু অংশ বাদ দিতে পারে। শিক্ষাবিদরাও এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৬ই মে ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নবগঠিত বিজেপি সরকার স্কুলের সিলেবাসে ব্যাপক রদবদল ঘটাতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। শিক্ষামন্ত্রী এখনও নিযুক্ত না হলেও, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে সচিবের সঙ্গে সংযোগ রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য কেবল দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা নয়, পাঠ্যক্রম থেকেও বাদ পড়তে পারে একাধিক বিতর্কিত বিষয়। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের কথায় এই ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর অষ্টম শ্রেণির বইতে সিঙ্গুর আন্দোলনের যে চার পাতার ইতিহাস যুক্ত হয়েছিল, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ ছিল, তা এবার বাদ পড়তে চলেছে। বিকাশ ভবনে ইতিমধ্যেই সিলেবাস পরিবর্তনের আবেদন জমা পড়েছে বলে খবর। শুধু সিঙ্গুর আন্দোলনই নয়, মুঘল ইতিহাস নিয়েও পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন সজল ঘোষ। তাঁর মতে, আকবরকে ‘বিরাট ধার্মিক’ বা শাহজাহানকে ‘প্রেমের প্রতীক’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা ‘ওদের লোকেরাই লিখেছিল’। এই বিষয়গুলিও বদলাবে বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন। শিক্ষাবিদরাও এই পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছেন।

যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায় বলেন, ‘ইতিহাসের রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল। আমাদের রাহুমুক্তি হয়েছে।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ও একমত, ‘সিঙ্গুর আন্দোলন আসলে এগিয়ে যাওয়াকে প্রতিরোধ করেছে। বাদ যাচ্ছে সেটা ভালো কথা।’ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।