ব্যুরো নিউজ, ১৮ই মে ২০২৬ঃ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজির দাম আকাশছোঁয়া হলেও, এবার আমজনতার পকেটে আরও বড় ধাক্কা দিতে চলেছে বিদ্যুতের বিল। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক স্থায়ী মাসিক বিদ্যুৎ শুল্ক বা ‘ফিক্সড চার্জ’ অনেকটাই বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে, বাড়িতে পাখা, এসি বন্ধ থাকলেও মাস শেষে গ্রাহকদের গুনতে হবে মোটা অঙ্কের বিদ্যুতের বিল। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলির (ডিসকম) বিপুল আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ।
বর্তমানে বহু বিত্তশালী পরিবার ও শিল্প সংস্থা রুফ টপ সোলার সিস্টেম বসাচ্ছে, ফলে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনা কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আপদকালীন ব্যাকআপের জন্য তারা সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার জারি রাখছে। এর ফলে ডিসকমগুলির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে আয় তলানিতে ঠেকছে। বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির মোট খরচের প্রায় ৩৮ থেকে ৫৬ শতাংশ স্থায়ী খরচ, যার মধ্যে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরি, কর্মীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু গ্রাহকদের ফিক্সড মান্থলি চার্জ থেকে সংস্থাগুলির মোট রাজস্ব মাত্র ৯ থেকে ২০ শতাংশ আসে। সোলার প্যানেলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে বাকি টাকা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আদায় করা কঠিন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ধাপে ধাপে এই ফিক্সড চার্জ বসানোর পরামর্শ দিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে, গৃহস্থলী ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগের ফিক্সড চার্জ বাড়িয়ে মোট খরচের ২৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা। এছাড়া, শপিং মল, কারখানা এবং বড় কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে এই চার্জ বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহকরা কতটা প্রভাবিত হন, এখন সেটাই দেখার।








