মহাকুম্ভে পূণ্যার্থীদের জন্য নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা: শিবরাত্রির শেষ শাহি স্নান

মহাকুম্ভে পূণ্যার্থীদের জন্য নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা

Share:

ব্যুরো নিউজ,২৬ ফেব্রুয়ারি :মহাশিবরাত্রির দিনে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত মহাকুম্ভের শেষ শাহি স্নানে লাখ লাখ পূণ্যার্থী অংশ নিতে জড়ো হয়েছেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি ১.৩৩ কোটি পূণ্যার্থী মহাকুম্ভে স্নান করেছেন এবং আজ সেই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরপ্রদেশ সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মহাকুম্ভ ২০২৫ঃ উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল প্রভাব, কি বলছে পরিসংখ্যান?

নানান নির্দেশিকা

মহাকুম্ভের এদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ৩৭ হাজার পুলিশ কর্মী এবং ১৪ হাজার হোমগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ২৭৫০টি এআই ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা, ৫০টি ওয়াচটাওয়ার, ৩টি জল পুলিশ স্টেশন এবং ১৮টি জল কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো, যাতে কোনো ভুয়ো খবর বা গুজব না ছড়ায়।

এছাড়া, মহাকুম্ভের গত ২৯ জানুয়ারি এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের হুড়োহুড়ির কারণে বহু পূণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। এর পর থেকেই প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে কাজ করছে যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে। এবার, মহাশিবরাত্রির শেষ শাহি স্নান উপলক্ষে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এই পুরো প্রক্রিয়া নজরদারি করছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে। তিনি গোরক্ষনাথ মন্দিরে একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছেন এবং সেখান থেকে অনবরত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়া, প্রয়াগরাজে স্নান করতে আসা পূণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকার নানান নির্দেশিকা জারি করেছে।

মহাকুম্ভের বাণিজ্যিক বিস্তারঃ ৩ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসার নতুন নজির

এদিকে, আজ কোনো ভিআইপি-র জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে না এবং পূণ্যার্থীদের কাছে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিকটবর্তী ঘাটে স্নান করেন, যেন ভিড়ের সৃষ্টি না হয়। একইসাথে, মহাকুম্ভে গাড়ি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাতে ট্রাফিকের সমস্যা না হয় এবং ভিড়ের মধ্যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।মহাকুম্ভে এমন বিপুল পরিমাণে মানুষের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে, প্রশাসনের প্রতি পূণ্যার্থীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের কাজের প্রতি পূণ্যার্থীদের আস্থা ও শ্রদ্ধা রেখে, নিরাপদভাবে শিবরাত্রির পূজা সম্পন্ন করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।