বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ৩০০ বছরের ঐতিহ্য মেনে প্রতিপদেই শুরু দুর্গাপুজো

বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ৩০০ বছরের ঐতিহ্য মেনে দেবীপক্ষের প্রতিপদেই শুরু হল দুর্গাপুজো। রাজ আমলের প্রথা, ঘট প্রতিষ্ঠা ও ৯ দিনের আরাধনা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১১ অক্টোবর ২০২৬: দেবীপক্ষের প্রতিপদেই বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ৩০০ বছরের প্রাচীন প্রথা মেনে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো। রবিবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রাঢ়বঙ্গের এই প্রাচীন উৎসবে সূচনা হল।

প্রতি বছর মহালয়ার পরের দিন, অর্থাৎ প্রতিপদেই কৃষ্ণসায়র চাঁদনিঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়িতে বাদ্যযন্ত্র সহকারে রুপোর ঘটে জল ভরে মন্দিরে নিয়ে আসা হয় এবং তা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রথা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে, যা বর্ধমানবাসীর কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

১৭০২ সালে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদ স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাহির সর্বমঙ্গলা অঞ্চল থেকে কষ্টিপাথরের দেবী মূর্তি উদ্ধার করেন এবং তা প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে সর্বমঙ্গলা দেবী বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন। রাজ আমলের সেই সাবেকি ধারা আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা এই পুজোর মূল আকর্ষণ। টানা নয় দিন ধরে চলে মায়ের পুজো, সঙ্গে চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ আরাধনা।

নবমীর দিন নবকুমারী পুজোর মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে, যা ভক্তদের মধ্যে এক অন্যরকম ভক্তিভাব জাগিয়ে তোলে। একসময় সন্ধিপুজোয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগার প্রথা ছিল, যার আওয়াজ শুনে জেলার জমিদার বাড়িগুলিতে সন্ধিপুজো শুরু হত। কিন্তু ১৯৯৭ সালের একটি দুর্ঘটনার পর সেই প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশুবলির প্রথাও উঠে গেছে। তবে ঐতিহ্য ও আন্তরিকতায় এতটুকুও খামতি নেই।

এই পুজোকে ঘিরে বর্ধমানবাসীর আনন্দ আজও অমলিন, যা বছরের পর বছর ধরে এই প্রাচীন প্রথাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।