ব্যুরো নিউজ, ৯ অক্টোবর ২০২৬: ম্যালেরিয়া ও কালাজ্বরের মতো মারাত্মক রোগের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) বিজ্ঞানীরা।
তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানবদেহের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন, p38-MAPK, ধ্বংস করতে পারলে এই দুই রোগের পরজীবী দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি প্রচলিত ওষুধ-নির্ভর পদ্ধতির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কৌশল, যা পরজীবীর ওষুধ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে পাশ কাটাতে সাহায্য করতে পারে।
‘কমিউনিকেশনস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে মানব কোষ থেকে p38-MAPK প্রোটিনটি সরিয়ে ফেলেন। এর ফলে ম্যালেরিয়া ও কালাজ্বরের পরজীবী, যথাক্রমে প্লাজমোডিয়াম ও লিশম্যানিয়া, তাদের জীবনচক্র বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। অধ্যাপক শৈলজা সিং এবং অধ্যাপক আনন্দ রঙ্গনাথনের নেতৃত্বে এই দলটি ‘হোস্ট-ডিরেক্টেড থেরাপি’ নামক এই পদ্ধতিতে কাজ করছেন, যেখানে পরজীবীকে সরাসরি আক্রমণ না করে, তারা যে মানব প্রোটিনের উপর নির্ভরশীল, সেটিকে লক্ষ্য করা হয়।
বর্তমানে ম্যালেরিয়ার জন্য ব্যবহৃত অনেক ওষুধ পরজীবীর প্রতিরোধের কারণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। কালাজ্বরও একটি প্রাণঘাতী রোগ, যা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। এই পরিস্থিতিতে জেএনইউ-এর এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ অণু, NR-7h, ব্যবহার করে p38-MAPK প্রোটিনটিকে ধ্বংস করেছেন, যা পরজীবীর বৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করেছে।
যদিও এটি প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা এবং এখনও প্রাণী বা মানুষের উপর পরীক্ষা করা হয়নি, তবে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে ম্যালেরিয়া ও কালাজ্বরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারে। যদিও এর সম্পূর্ণ সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। ভারতের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রগতিতে এক অনন্য অবদান হয়ে থাকবে।








