সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে মঙ্গলগ্রহে ভয়ংকর বন্যা, বদলে গিয়েছিল চেহারা: বিজ্ঞানীরা

সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে মঙ্গলগ্রহে এক ভয়ংকর বন্যা হয়েছিল, যা লাল গ্রহের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল। ইউরোপিয়ান বিজ্ঞানীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ই মে ২০২৬ঃ ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি মঙ্গলগ্রহের এক বিস্ময়কর অতীত উন্মোচন করেছেন। তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি বছর আগে লাল গ্রহের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল এক ভয়ংকর বন্যা। বিজ্ঞানীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি প্রকাশ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।

তাঁদের দাবি, মঙ্গলের বর্তমান ভূপ্রকৃতি চিরকাল এমন ছিল না, বরং এক বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয় এর রূপ পরিবর্তন করে দিয়েছে। এই আবিষ্কার মঙ্গলগ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই ভয়ংকর বন্যাটি ঘটেছিল মাটির তলার জল আচমকা ফেটে বেরিয়ে আসার ফলে। জলের পরিমাণ এতটাই ছিল যে মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই তা মঙ্গলের বিশাল এলাকা জুড়ে তাণ্ডব চালায়। এর ফলে ৫০০ মিটার গভীর এবং ১০ কিলোমিটার চওড়া একটি উপত্যকার সৃষ্টি হয়, যা শালবাতানা ভালিস নামে পরিচিত এবং আজও মঙ্গলের বুকে বিদ্যমান।

এছাড়া, বিষুবরেখার কাছে ১৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চ্যানেলও তৈরি হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় একসময় এর মধ্য দিয়ে প্রবল জলস্রোত প্রবাহিত হত। এই চ্যানেলটি মঙ্গলের ভূপ্রকৃতিতে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই বন্যা বিপুল পরিমাণ পলি বয়ে এনে অনেক বিশালাকার দিঘি ভরাট করে দিয়েছিল। মঙ্গলের প্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করে তাঁরা নিশ্চিত যে, লাল গ্রহের মাটিকে নতুন রূপ দিতে জলের এক বড় ভূমিকা ছিল। এমনকি, মঙ্গলের সবচেয়ে নিচু অংশে অনেক জলধারা এসে মিলিত হয়েছিল, যা থেকে অনুমান করা হয় যে একসময় সেখানে একটি সুবিশাল মহাসাগরও থাকতে পারত। এই আবিষ্কার মঙ্গলের জলবায়ু এবং জীবন ধারণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও গবেষণার পথ খুলে দিচ্ছে।