ব্যুরো নিউজ, ১৮ই মে ২০২৬ঃ পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর নজরে দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির তলবে হাজিরা দিলেন তিনি। এই ঘটনা পুর-কেলেঙ্কারির তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঠিক কী কী অনিয়ম হয়েছিল, তা জানতেই মূলত পাঁচু রায়কে জেরা করা হচ্ছে। সবচেয়ে জল্পনার বিষয় হল, এই মামলাতেই সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়ে পাঁচু রায়কে জেরা করা হতে পারে। এই জল্পনা ঘিরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহেই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। বর্তমানে তিনি ইডির হেফাজতেই রয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুজিত বসুর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তদন্তে এমন একটি তালিকা উঠে এসেছে, যেখানে কম-বেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে।
অভিযোগ, এই বিপুল সংখ্যক অযোগ্য প্রার্থীর নাম সুপারিশ করার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় যখন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল, তখন পুরসভার শীর্ষপদে (চেয়ারম্যান) আসীন ছিলেন পাঁচু রায়। স্বাভাবিকভাবেই, মন্ত্রীর সুপারিশ করা তালিকা কীভাবে পুরসভার বোর্ডে ছাড়পত্র পেল এবং এর নেপথ্যে আর কোন কোন প্রভাবশালীর হাত রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে চাইছে ইডি। সুজিত বসুর বয়ানের সঙ্গে পাঁচু রায়ের বয়ান মিলিয়ে দেখতেই এই তলব। প্রয়োজনে সিজিও কমপ্লেক্সের একই ঘরে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
এই মামলার রেশ ধরে এর আগে রাজ্যের আরেক মন্ত্রী রথীন ঘোষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার নাম জড়ানোয় প্রাক্তন শাসকদল রীতিমতো অস্বস্তিতে। পাঁচু রায়ের এই হাজিরা পুরনিয়োগ মামলার তদন্তে নতুন কোনও মোড় আনে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।








