বালির চালানে দাম উধাও, সরব কুড়মি সমাজ; মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দাম বাঁধার ইঙ্গিত

বালির চালানে টাকার অঙ্ক না থাকায় সরব কুড়মি সমাজ। পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার বালিঘাটে অস্বচ্ছতার অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী বালির দাম বেঁধে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হাইকোর্টে মামলা।

Share:

ব্যুরো নিউজ , ২৩ মে ২০২৬:  রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও বালিঘাটে অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে ফের সরব হয়েছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বিভিন্ন বালিঘাটে বালি তোলার ক্ষেত্রে চালান দেওয়া হলেও, তাতে টাকার অঙ্কের উল্লেখ থাকছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরে এক প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বালির দাম বেঁধে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ ঘাট বন্ধের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদিত ঘাট থেকে প্রতি ট্র্যাক্টর বালির জন্য তিন-চার হাজার টাকা নেওয়া হলেও চালানে তা লেখা হচ্ছে না। কুড়মি সমাজ কর্মী নিবাস মাহাতো জানান, রয়্যালটি বাবদ যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, চালানে কেন তার উল্লেখ নেই, তা ঘাট পরিচালকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, চালানে টাকার অঙ্ক লেখা বাধ্যতামূলক এমন কোনও নির্দেশ তাঁর কাছে নেই।

ক্ষুব্ধ কুড়মি সমাজ কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ আসার পরেই বালি তোলা যাবে। এই বিষয়ে পুরুলিয়ার নৃপেণ মাহাতো বালির ইচ্ছেমতো দাম নেওয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, এক এক জায়গায় ট্র্যাক্টর পিছু চার থেকে সাত হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। দূরত্ব অনুযায়ী বহন খরচ আলাদা হলেও রয়্যালটি একই হওয়া উচিত। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো বলেন, বালির সিন্ডিকেট নিয়ে তাঁদের দীর্ঘ লড়াই। এই দুর্নীতির জন্যই তাঁরা ‘নো ভোট টু তৃণমূল’-এর ডাক দিয়েছিলেন। সরকারি ঘাট থেকে বালি তুলে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, অথচ চালানে টাকার অঙ্ক থাকবে না কেন, এই প্রশ্নের জবাব তাঁরা পাননি। তাঁরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং কাশীপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা জানিয়েছেন, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।