ব্যুরো নিউজ, ২৩ মে ২০২৬ঃ সিঙ্গাপুরে ফের করোনার মারণ থাবা। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী স্তিমিত হয়ে এলেও, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে হঠাৎ করেই কোভিড-১৯ সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ থেকে ১৬ মে-র মধ্যে আনুমানিক ১২,৭০০ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা আগের সপ্তাহের ৮,০০০ থেকে অনেকটাই বেশি। এই আকস্মিক সংক্রমণ বৃদ্ধির পিছনে ভাইরাসের একটি নতুন উপ-প্রজাতি বা সাব-ভ্যারিয়েন্ট ‘NB.1.8.1’ দায়ী বলে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটি মূলত ওমিক্রনের পরিচিত বংশধর JN.1 স্ট্রেন থেকে রূপান্তরিত হয়ে তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটিকে ‘ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং’ (VUM) তালিকাভুক্ত করেছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলে তীব্র গলা ব্যথা, ক্লান্তি, হালকা কাশি, জ্বর, শরীরে ব্যথা এবং নাক বন্ধ হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা এখন ‘এন্ডেমিক’ বা সাধারণ ঋতুভিত্তিক রোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে বর্তমান ঢেউটির প্রধান দুটি কারণ হল– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষয় এবং ভাইরাসের বিবর্তন। নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ‘NB.1.8.1’ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আংশিকভাবে ফাঁকি দিতে সক্ষম। যদিও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি আগের ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় বেশি সংক্রামক বা বেশি মারাত্মক– এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। প্রশাসন ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ নাগরিক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের দ্রুত টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।








