ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ফাঁপা দাবি! ৯০ বছরের শাশুড়িকে পিঠে চাপিয়ে ৯ কিমি হেঁটে পেনশন তুললেন বৌমা, তোলপাড় দেশ

ছত্তীসগঢ়ে ৯০ বছরের শাশুড়িকে পিঠে চাপিয়ে ৯ কিমি পাহাড়ি পথ হেঁটে পেনশন তুললেন বৌমা। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার দাবি কতটা ফাঁপা, ভাইরাল ভিডিয়ো চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ মে ২০২৬ঃ ছত্তীসগঢ়ের সুরগুজা জেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এক মর্মস্পর্শী ঘটনা ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র ফাঁপা দাবিকে ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। ৯০ বছর বয়সী শাশুড়িকে পিঠে চাপিয়ে ৯ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেন এক গৃহবধূ, উদ্দেশ্য শাশুড়ির মাসিক পেনশন সংগ্রহ। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৈনপত অঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসকারী সুখমানিয়া বাই নামের ওই গৃহবধূকে প্রতি মাসে এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়। তাঁর শাশুড়ি ১,৫০০ টাকা পেনশন পান। আগে সরকারি কর্মীরা গ্রামে এসে এই টাকা পৌঁছে দিলেও বর্তমানে সেই পরিষেবা বন্ধ। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেনশনের টাকা তুলতে হলে বৃদ্ধাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করাতে হবে। কিন্তু ওই দুর্গম এলাকায় কোনও গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকায়, নিরুপায় হয়ে সুখমানিয়া বাই তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে তুলে হাঁটেন। কাঠফাটা রোদের মধ্যে জঙ্গল, পাহাড়, নদী-নালা পেরিয়ে তাঁদের এই পথচলা দেখে নেটিজেনদের একাংশ ‘বিক্রম-বেতাল’-এর গল্পের কথা স্মরণ করেছেন। তবে এটি কোনও রূপকথা নয়, প্রান্তিক মানুষের টিকে থাকার নির্মম লড়াইয়ের বাস্তব চিত্র।

সমাজকর্মীরা এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, একদিকে যখন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিষেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে, তখন অন্য প্রান্তে পরিকাঠামোর অভাবে আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নীতি নির্ধারণ এবং তার বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ফাঁক রয়ে গিয়েছে, ছত্তীসগঢ়ের এই ঘটনাই তার প্রমাণ।