পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল: হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের ঢল, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ আতঙ্কে দেশ ছাড়ার হিড়িক

পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর হাকিমপুর সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক। নতুন সরকারের ‘হোল্ডিং সেন্টার’ ঘোষণার পর আতঙ্কিত হয়ে ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ মে ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে ফের দেখা গেল এক চেনা ছবি। দলে দলে অবৈধ অভিবাসীরা নিজেদের দেশে, অর্থাৎ বাংলাদেশে, ফিরে যাওয়ার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চেকপোস্টের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালেও হাকিমপুর সীমান্তে ট্রলি, ব্যাগপত্র ও লোটা-কম্বল নিয়ে বহু মানুষকে প্লাস্টিক পেতে জটলা করে বসে থাকতে দেখা যায়। অপেক্ষা শুধু ওপার থেকে পারাপারের ডাক আসার।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্যের নতুন সরকারের তরফে অনুপ্রবেশকারী এবং সন্দেহভাজন রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা বিশেষ শিবির গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের এই কড়া বার্তার পরই অবৈধভাবে এ দেশে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে তড়িঘড়ি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার তাড়াহুড়ো শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টারের জন্য উপযুক্ত জায়গা খোঁজার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের আটক করে এই সব কেন্দ্রে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারের এই কড়া পদক্ষেপই অনুপ্রবেশকারীদের স্বদেশে ফেরার পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। গত অক্টোবর মাসে যখন রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘোষণা করা হয়েছিল, তখনও বাংলাদেশমুখী এমন স্রোত দেখা গিয়েছিল। সেই সময়ে নিউটাউন, দমদম কিংবা ডানকুনির মতো কলকাতার পার্শ্ববর্তী এলাকায় লুকিয়ে থাকা শয়ে শয়ে অবৈধ বাসিন্দা হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পূর্বতন রাজ্য সরকারের নরম অবস্থানের ফলেই অনুপ্রবেশকারীরা এ দেশে থাকার ব্যাপারে ‘আশ্বস্ত’ বোধ করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যেন নতুন সরকারের কঠোর অবস্থানকে মান্যতা দিচ্ছে।