ব্যুরো নিউজ, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সৌদি আরবে হাউদি বিদ্রোহীদের লাগাতার আক্রমণের কারণে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (MJDA)-এর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গত ৭ই আগস্ট সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ ধারার আদলে তৈরি এই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, তিন দেশের মধ্যে যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সকলের উপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তবে ইরান-সমর্থিত হাউদিরা আবহা, খামিস মুশাইত, জিযান, নাজরান এবং তাইফ সহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্রতর করলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এমনকি মক্কা শহরের কাছেও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ হয়েছে। এই হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তেল স্থাপনাগুলিতে আগুন লেগেছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও সহায়তা কর্মীরা আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। প্রায় ৮,০০০ সেনা, জেএফ-১৭ থান্ডার ফাইটার জেট এবং চীন নির্মিত এইচকিউ-৯ দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সৌদি আরবে মোতায়েন আছে, যার সমস্ত খরচ সৌদি আরব বহন করে।
এত কিছুর পরেও, যখন সৌদি আরবের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ হচ্ছে এবং মক্কা শহরের উপর সতর্কতা জারি হচ্ছে, তখন পাকিস্তানের এই সামরিক উপস্থিতি নিষ্ক্রিয় কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি রিয়াদে তুর্কি ও পাকিস্তানি সেনাপ্রধানদের মধ্যে আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল বা সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশনও হাউদি হুমকির বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আপাতত প্রভাবহীন এক চুক্তিতে পরিণত হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।







