ব্যুরো নিউজ, ২৭ মে ২০২৬ঃ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরদিনই তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বুধবার দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠি দিয়ে তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত ১৫ মে কাকলিকে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরানো হয়েছিল। সেই পদে এসেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বারাসত সংসদীয় জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ এবং মহিলা তৃণমূলের শীর্ষ পদও ছেড়েছিলেন কাকলি। দলের অন্দরে তাঁর অভিমান নিয়ে আলোচনা চলছিলই। কল্যাণীতে নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার সাংসদ, বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরে দাবি করেন, বৈঠকে এসে কাকলি তাঁর পুরনো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এবং অতীতে তাঁকে মন খুলে বলার সুযোগ দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ করেছেন। কল্যাণীতে সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং বৈঠক শেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান
। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা ভোটে দলের ভরাডুবির পর সংগঠনে একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই আবহেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়, যা কাকলি ভালো ভাবে নেননি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সৈনিক হিসেবে পরিচিত কাকলির এই পদক্ষেপ আসন্ন দিনে দলের উপর কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এই পদত্যাগের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।








