জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যু: সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন, ৮ জুন থেকে বিচার শুরু

সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যু মামলায় সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল আদালত। ৮ জুন থেকে দৈনিক ভিত্তিতে শুরু হবে বিচার প্রক্রিয়া। জুবিন ভক্তদের নজর এখন এই মামলার দিকে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৮ মে ২০২৬ঃ সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের রহস্যমৃত্যু মামলায় অবশেষে গতি এল। বিশেষ আদালত সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের বিচারক শর্মিলা ভূঁইয়া একে একে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (BNS) দফা অনুযায়ী হত্যা, হত্যা-সমতুল্য অপরাধ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ পড়ে শোনান। যদিও অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর জিয়াউল কামার জানিয়েছেন, আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে এখন থেকে আর কোনও অতিরিক্ত শুনানি নয়, সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। আগামী ৮ জুন থেকে দৈনিক ভিত্তিতে সাক্ষ্য শোনা হবে এবং প্রসিকিউশনকে একবারেই পূর্ণ সাক্ষীর তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস দ্বীপে সাগরে সাঁতার কাটতে নেমে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ। তিনি উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের (NEIF) চতুর্থ সংস্করণে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু ঘিরে অসম জুড়ে ৬০টির বেশি এফআইআর জমা পড়েছিল, যার ভিত্তিতে সিআইডি-র অধীনে সিট (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে উঠে আসা অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন NEIF-এর প্রধান আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী ও অমৃত প্রভা মহন্ত, আত্মীয় ও অসম পুলিশের DSP সন্দীপন গর্গ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বরা ও প্রবীণ বৈশ্য। প্রধান অভিযুক্ত শ্যামকানুর বিরুদ্ধে ৮টি ধারা, শর্মার বিরুদ্ধে ৭টি এবং দুই ব্যান্ড সদস্যের বিরুদ্ধে ৬টি করে ধারা প্রযোজ্য হয়েছে। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর পুলিশের তদন্তে খুনের অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি এবং সেখানকার কোরোনার আদালত এটিকে অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় লাইফ জ্যাকেট ছাড়া জলে ডুবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে রায় দিয়েছিল। তবে ভারতের আদালতে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারপর্ব শুরু হওয়ায় জুবিন ভক্তরা সেই মর্মান্তিক দিনের প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।