মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাবালিকা পাচার ও যৌন শোষণের দায়ে ভারতীয় যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাবালিকা পাচার ও যৌন শোষণের দায়ে ভারতীয় হোটেল কর্মী কভনকুমার প্যাটেলের ১০ বছরের কারাদণ্ড। পাচারকারীদের টাকা দিয়ে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ মে ২০২৬ঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যে মানবপাচার ও নাবালিকা যৌন শোষণের এক ভয়াবহ মামলায় ২৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় যুবককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অভিযুক্তের নাম কভনকুমার প্যাটেল, যিনি গুজরাতের বাসিন্দা এবং ওমাহার একটি আমেরিক ইন হোটেলে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, তিনি পাচারকারীদের টাকা দিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি, যখন একটি চুরির অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে ওমাহা পুলিশ ওই হোটেলে মানবপাচার ও যৌন শোষণের একাধিক ইঙ্গিত পায়। পরবর্তীকালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, পাচারকারীরা ওই দুই কিশোরীকে অন্য একটি রাজ্য থেকে নিয়ে এসেছিল এবং কম ভাড়ায় হোটেলের ঘর পাওয়ার শর্ত হিসেবে তাদের হোটেল কর্মীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল।

কভনকুমার প্যাটেল হোটেলের ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে আদালতে স্বীকার করেছেন। সেই টাকার বিনিময়ে তিনি নাবালিকার কাছে যাওয়ার সুযোগ পান। এই ঘটনায় হোটেলের আরও দুই কর্মচারী জড়িত ছিল বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে একজন টাকা না দিয়েই নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করে। এই কর্মচারীরাই পাচারকারী ও কিশোরীদের হোটেলে থাকতে সাহায্য করেছিল।

মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীরা পর্যাপ্ত খাবারও পেত না এবং পালানোর কোনও উপায় ছিল না। পাচারকারীরা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে তাদের দিয়ে আরও যৌন শোষণের ব্যবস্থা করছিল। এই ঘটনা মানবপাচার ও শিশু যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি এমন অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত অভিযোগ জানানো এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে প্রশাসনকে খবর দেওয়ার উপর জোর দিয়েছে। শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রত্যেকের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।