ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ঃ কলকাতা বন্দরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং মাফিয়াতন্ত্র রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার কলকাতা বন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আন্তঃসংস্থা বৈঠক শুরু হচ্ছে। সম্প্রতি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল সরকারের মদতে কলকাতা বন্দরে একশ্রেণির তোলাবাজ ও মাফিয়াদের রাজত্ব চলত।
তাঁর দাবি, কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এই মাফিয়ারা জাহাজ থেকে মাদক ও অন্যান্য অবৈধ জিনিসপত্র পাচারে মদত দিত। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার এবার বড় পদক্ষেপ করছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, প্রতি মাসে কলকাতা পুলিশ, সিআইএসএফ, শ্যামাপ্রসাদ বন্দরের অধিকর্তা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকে কলকাতা পুরনিগম, কাস্টমস এবং বন্দর কর্তৃপক্ষও অংশ নেবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল, বন্দরের মাধ্যমে হওয়া সমস্ত অবৈধ পাচার এবং রাজস্ব ফাঁকি রুখে দেওয়া।
পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কলকাতা বন্দর বরাবরই দেশীয় পণ্য রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে অপরিহার্য। এর কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিদেশি গুপ্তচর সংস্থাগুলিরও নজর থাকে। অতীতে এআইএস গুপ্তচরও গ্রেফতার হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগে সিআইএসএফ এবং কলকাতা পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল, যা মাফিয়াদের কার্যকলাপের সুযোগ করে দিত। এখন সেই সমস্যা দূর করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং দেশের অর্থনীতি ও সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।








