ব্যুরো নিউজ, ৬ জুন ২০২৬ঃ কলকাতা মেট্রোর বরাহনগর-ব্যারাকপুর পিঙ্ক লাইন প্রকল্প, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে হিমঘরে থাকার পর অবশেষে পুনরুজ্জীবনের আশা দেখাচ্ছে। ২০১০ সালে অনুমোদন পেলেও, ১২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড মেট্রো পথের কাজ ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) জমা দেওয়া ছাড়া এক ইঞ্চিও এগোয়নি। ন্যূনতম অর্থ বরাদ্দ করে রেল বোর্ড প্রকল্পটি বাঁচিয়ে রেখেছিল। সম্প্রতি চিংড়িঘাটায় অরেঞ্জ লাইনের জট কাটার পরেই পিঙ্ক লাইন নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)-এর আধিকারিকরা কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে এই প্রকল্প নিয়ে বৈঠক সেরেছেন।
পিঙ্ক লাইনের মূল বাধা ছিল বিটি রোডের নীচে থাকা পানীয় জলের পাইপলাইন। পুরসভা জানিয়েছিল, বিটি রোডের নীচে দুটি বড় পাইপলাইন রয়েছে, যা পলতা থেকে টালা জলাধারে জল সরবরাহ করে। মেট্রোর কাজে এগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তর কলকাতার কয়েক লক্ষ মানুষ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হতেন। বিকল্প হিসেবে একটি ৬৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ বসানো হলেও, পরে কাজ থমকে যায়। ২০১৪ সালে কলকাতা পুরসভা রেলকে জানিয়ে দেয় যে পাইপলাইন সরানো সম্ভব নয়, যার ফলে ২০৭০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি রেল বোর্ড নতুন করে পিঙ্ক লাইন নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
আরভিএনএল ও কলকাতা পুরসভার মধ্যে আলোচনা হয়েছে, কীভাবে বিটি রোডের নীচে থাকা পানীয় জলের লাইনগুলির মধ্যে অন্তত দুটি সরিয়ে মেট্রোর পিলার বসানো যায়। ইঞ্জিনিয়াররা মনে করছেন, ৬৪ ইঞ্চির পাইপলাইনটি আগেই বসানো থাকায় কাজ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। সব কিছু ইতিবাচক ভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতে পিঙ্ক লাইনের কাজ শুরু হতে পারে, যদিও কাজ শেষ হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।







