ব্যুরো নিউজ, ১৩ জুন ২০২৬ : ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হারের পর দলের চরম দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের পুরস্কার পেলেন কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার এই তৃণমূল বিধায়ককে উত্তর কলকাতার তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি সম্প্রতি দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগের পরই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কুণাল ঘোষকে এই পদে বসানো হল। দলের কঠিন সময়ে কুণাল ঘোষ যেভাবে দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সর্বজনবিদিত।
তাঁর এই নতুন দায়িত্ব দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার সকালে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দেখা যায়। সূত্রের খবর, সেখানে আলোচনার পর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের সঙ্গে দেখা করেন এবং আনুষ্ঠানিক সই সাবুদ পর্ব সারেন। জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলের সঙ্গে থাকা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দলবদল রাজ্য রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের হারের পর সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে দলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আবির্ভাব ও ছদ্মবেশী ‘বন্ধু’র দল একে একে ক্ষমতার অলিন্দে গা ঘেষতে শুরু করলে শনিবার হঠাৎ আবির্ভূত হন সুদীপ। তাঁকেও দেখা যায় বিদ্রোহের আগুনে হাত সেঁকতে। একইসঙ্গে, যুব তৃণমূল সভাপতির পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সায়নী ঘোষকে সরিয়ে সেই দায়িত্বে আনা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের এই রদবদলকে দলের পুনর্গঠন এবং আনুগত্যকে পুরস্কৃত করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, কঠিন সময়ে যারা দলের পাশে থাকবেন, তাঁদেরই পুরস্কৃত করা হবে।








