ব্যুরো নিউজ, ১৪ জুন ২০২৬ : ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। ট্রাম্প প্রশাসনের নীরবতা এবং হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে দুটি জাহাজে ভারতীয় নাবিকরা ছিলেন। এই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক শোকপ্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সরকারের এই চরম উদাসীনতায় থারুর প্রশ্ন তুলেছেন, নিজেকে ভারতের ‘বন্ধু’ ও ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার’ দাবি করা একটি দেশ কীভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে? গত ৮ জুন পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘মারিভেক্স’ জাহাজে প্রথম হামলা হয়। ২৪ জন ভারতীয় নাবিক অক্ষত ছিলেন। কিন্তু ১০ জুন ‘সেত্তেবেল্লো’ নামক আরও একটি জাহাজে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় ২৮ জন কর্মীর মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় ছিলেন। এই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক সমুদ্রে তলিয়ে যান এবং পরে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘জলবীর’ জাহাজেও হামলা হলেও ২০ জন ভারতীয় নাবিক অক্ষত থাকেন। পরপর তিনটি জাহাজে আক্রমণ এবং তিন ভারতীয়ের মৃত্যুর পরেও আমেরিকার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক দুঃখপ্রকাশ না আসায় শশী থারুর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “আমেরিকান সরকারের এই বিবৃতি পড়ে আমি স্তম্ভিত। নিরীহ ভারতীয়দের মৃত্যুর ঘটনায় সামান্য অনুশোচনা বা সমবেদনাও জানায়নি তারা।” শুধু সমবেদনার অভাবই নয়, মার্কিন সেনার এই প্রাণঘাতী হামলার পদ্ধতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন থারুর। তাঁর বক্তব্য, একটি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ নির্দেশ অমান্য করলেই কি তার ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে থামাতে হবে? অন্য কোনও উপায়ে কি জাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেত না? নাবিকদের মৃত্যুর এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার।
ঘটনার পরেই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, আমেরিকান বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনেও এই নিয়ে দীর্ঘ কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনও বাণিজ্যিক জাহাজের উপর এই ধরনের প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।








