কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাত ও মুষলধারে বৃষ্টি: সোম পর্যন্ত চরম সতর্কতা জারি

কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাত ও মুষলধারে বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হলুদ ও উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা জারি। জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ জুন ২০২৬ঃ কলকাতায় বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে দেখা গেল প্রকৃতির এক রুদ্র রূপ। তীব্র গরমের পর হঠাৎই আকাশ কালো করে নেমে আসে মুষলধারে বৃষ্টি, সঙ্গে একের পর এক কানফাটানো বজ্রপাত। সাম্প্রতিক অতীতে এমন ঘনঘন ও তীব্র বজ্রপাত দেখেনি তিলোত্তমা। মুহুর্মুহু বাজ পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে মহানগরীর বহুতল থেকে সাধারণ মানুষ। ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, ময়দান ও হাইকোর্ট চত্বরের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলিও বাজের শব্দে স্তব্ধ হয়ে যায়। কেবল কলকাতা নয়, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়াতেও ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্তের কারণে বিপুল জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করে ‘বজ্রগর্ভ মেঘ’ তৈরি করছে, যা এই অস্বাভাবিক বজ্রপাতের কারণ। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার (২৯ জুন) পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি থাকবে।

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব মেদিনীপুরে প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আগামী সোমবার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টির কারণে ‘লাল ও কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। পার্বত্য নদীগুলির জলস্তর বাড়ছে এবং ধসের আশঙ্কা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।