তারাতলা বিপর্যয়: শ্রমিকদের তালিকা না থাকায় তদন্তে বড় বাধা, জানাল সিট

তারাতলা বিপর্যয়ে শ্রমিকদের কোনও রেজিস্টার না থাকায় তদন্তে বড় বাধা, জানাল সিট। কলকাতা পুরসভার ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে লালবাজার। চলছে উদ্ধারকাজ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ জুন ২০২৬ : তারাতলা বিপর্যয়ের পর চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকাজ এখনও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক চাপা পড়ে আছেন, সে তথ্য জানা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ, এত বড় গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের কাজ চললেও সেখানে শ্রমিকদের কোনও রেজিস্টার ছিল না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য জানালেন অ্যাডিশনাল সিপি ক্রাইম কুণাল আগরওয়াল। শ্রমিকদের সঠিক তথ্যের অভাবে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্তে নেমে হয়রান। মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। সিট সূত্রে খবর, শ্রমিকদের পরিচয় ও সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারায় উদ্ধারকাজ ও পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে। গুদাম মালিক বা ঠিকাদারের পক্ষ থেকে কোনও তালিকা না থাকায়, নিখোঁজদের পরিবারের দাবি যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বন্দরের থেকে লিজ নেওয়া এই জায়গাটিতে কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতা পুরসভা এই গুদামটির অনুমোদন দিয়েছিল।

বিপর্যয়ের পর লালবাজার পুরসভার থেকে আরও তথ্য জানতে চেয়েছে এবং প্রয়োজনে ইঞ্জিনিয়ারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এই ঘটনায় কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগার হোসেন, সাহিল সর্দার, হাসান ইমাম, গণেশ কালান্দি এবং নবীন সিং-সহ মোট এগারো জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনও জারি রয়েছে।