নিউজ ব্যুরো, ২৬ জুন ২০২৬: তারাতলায় তিনতলা গোডাউনের ছাদ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, নির্মাণ খরচ বাঁচাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
লালবাজারের ‘সিট’ সূত্রে খবর, পুরো প্রকল্পের জন্য লোহার রড বাবদ মাত্র ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় অনেক কম। গোয়েন্দারা হিসাব করে দেখেছেন, এই খাতে আরও অনেক বেশি টাকা প্রয়োজন ছিল। এই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই গোডাউনের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও কত দেহ উদ্ধার বাকি, তা নিয়ে পুলিশ ধন্দে রয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, গোডাউনে কত শ্রমিক কাজ করতেন, তার কোনও সঠিক রেকর্ড ছিল না। যদি কোনও খাতা থেকেও থাকে, তা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে। ফলে নিখোঁজ শ্রমিকের সঠিক সংখ্যা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা উদ্ধারকাজকেও প্রভাবিত করছে। গোডাউন নির্মাণের বরাত দেওয়া হয়েছিল বেহরা ব্রাদার্সকে, যারা পরে বন্দর এলাকার আয়ান ট্রেডার্সকে উপ-বরাত দেয়। আয়ান ট্রেডার্সের কর্ণধার আসগর, যাঁর দেহ ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে, তাঁর নাম এফআইআরে রয়েছে।
এই ঘটনায় নির্মাণ সংস্থার চরম গাফিলতি এবং সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।








