ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিক উদ্ধার, হাজার হাজার এখনো নিখোঁজ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিক উদ্ধার হলেও হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। উদ্ধারকাজে ধীরগতিতে বাড়ছে ক্ষোভ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুন ২০২৬ঃ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে অন্তত ১,৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। ভেঙে পড়েছে প্রায় আটশো ভবন, যার নিচে চাপা পড়ে আছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে “সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এই ভয়াবহতার মধ্যেও কিছু ‘অলৌকিক উদ্ধার’-এর ঘটনা আশার আলো দেখাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ১১ বছর বয়সী দুই বালক।

এদের মধ্যে মোইসেস নামের এক বালককে প্রায় ৩ মিটার গভীর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়। যদিও তার মা ও বোনকে বাঁচানো যায়নি। এই উদ্ধারকাজগুলি উদ্ধারকারীদের মনোবল বাড়ালেও, হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। সাহায্য সংস্থাগুলির মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও, উদ্ধারকারীরা এখনো হাল ছাড়েননি। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এদিকে, উদ্ধারকাজে ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার

বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, সরকার সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ অদক্ষভাবে চলছে। একের পর এক আফটারশক উদ্ধারকর্মীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে এবং নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বহু মানুষ খোলা জায়গায় বা গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।