বর্ষার তাণ্ডব: অরুণাচলে ধস-বন্যায় মৃত ৩, নিখোঁজ অনেকে; হিমাচলে বন্ধ শ্রীখণ্ড মহাদেব যাত্রা

অরুণাচলে ধস-বন্যায় মৃত ৩, নিখোঁজ অনেকে। হিমাচলে মেঘভাঙা বৃষ্টির আশঙ্কায় বন্ধ শ্রীখণ্ড মহাদেব যাত্রা। NDRF মোতায়েন, জারি লাল সতর্কতা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুন ২০২৬ঃ বর্ষার শুরুতেই প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ দেখছে ভারতের দুই পাহাড়ি রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ ও হিমাচল প্রদেশ। উত্তর-পূর্বের অরুণাচলে হড়পা বান ও একের পর এক মারাত্মক ধসের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। অন্যদিকে, উত্তর ভারতের হিমাচলেও ঘনিয়ে আসছে বড়সড় বিপদের মেঘ। অরুণাচলে বন্যা ও ধসের কবলে পড়ে ইতিমধ্যেই তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, নিখোঁজ আরও অনেকে। অবিশ্রান্ত বৃষ্টির জেরে লোয়ার সিয়াং জেলার সিজি ব্লক পয়েন্টে এক প্রকাণ্ড ধস নেমে সিজি নদীকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে নদীর নিম্ন অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, জারি হয়েছে চরম সতর্কতা।

ইস্ট সিয়াং জেলাতেও ভারী বৃষ্টির তোড়ে একটি সেতু ভেঙে পড়েছে এবং বিঘার পর বিঘার জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কেই পানিয়র জেলায় গত বুধবারের হড়পা বানে নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে রবিবার আরও একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩। এখনও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) অতিরিক্ত ২৩ জন জওয়ানকে কেই পানিয়র জেলায় পাঠানো হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘নেপকো’-র কলোনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে অন্তত ৩০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধুয়েমুছে গিয়েছে। দুর্গতদের জন্য ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে।

দফতর (IMD) জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অরুণাচলের বেশ কিছু জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি অতীব ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাপুম পারে এবং ইস্ট সিয়াং জেলায় ‘ভেরি হেভি রেইনফল’-এর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে, হিমাচল প্রদেশেও বর্ষার মেঘ ঘনিয়ে আসতেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুল্লু জেলা প্রশাসন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮,৫৭০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত দেশের অন্যতম কঠিন ও দুর্গম তীর্থক্ষেত্র ‘শ্রীখণ্ড মহাদেব যাত্রা’ পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।