ব্যুরো নিউজ, ২ জুলাই ২০২৬ঃ ১৯৫১ সালের এনআরসি-র কম্পিউটারাইজড কপি, একাধিক ভোটার তালিকা, প্যান কার্ড, স্কুলের শংসাপত্র ও জমির দলিল-সহ মোট ১৫টি নথি জমা দিয়েও ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ হলেন অসমের এক বাসিন্দা। বিদেশি ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখে গুয়াহাটি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ওই ব্যক্তিকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, জমা দেওয়া নথিগুলির বেশিরভাগই আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় অথবা নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।
এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাকারী গুয়াহাটির কাছে ভাড়া বাড়িতে থাকা এক দিনমজুর। বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি শামিমা জাহানের ডিভিশন বেঞ্চ গত ৩০ জুন রিট পিটিশন খারিজ করে এই রায় দেয়। আদালত জানায়, বিদেশি আইন, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী তিনি যে ভারতীয় নাগরিক, সেই প্রমাণের দায় তিনি পূরণ করতে পারেননি। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, ১৯৫১ সালের এনআরসি-র কপিগুলি কেবল কম্পিউটার থেকে তৈরি প্রিন্টআউট ছিল, যা প্রমাণ আইন, ১৮৭২-এর ৬৫বি ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শংসাপত্র ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণনা আইন, ১৯৪৮ অনুযায়ী জনগণনার তথ্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য নয়।
এছাড়াও, ২০১৭ সালের স্কুলের শংসাপত্র যিনি দিয়েছিলেন, সেই প্রধান শিক্ষককে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি। জমির দলিল সংক্রান্ত উত্তরাধিকারের সরকারি নথি বা খাজনার রেকর্ডও পেশ করা যায়নি। প্যান কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্রকে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আদালত বহু আগেই বাতিল করেছে। ভোটার তালিকাগুলিতেও বয়স ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একাধিক অসঙ্গতি এবং তিনটি আলাদা গ্রামের ভোটার তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি আদালতের সামনে ধারাবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এর ফলে, এতগুলি নথি থাকা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত ‘বিদেশি’ হিসেবেই চিহ্নিত করা হল। এই রায় নাগরিকত্ব প্রমাণের জটিলতা আরও একবার সামনে আনল।








