ব্যুরো নিউজ, ৩ জুলাই ২০২৬ঃ পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়, এই দাবিতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন শহরের ১০৫টি সেতুর নিচে বসবাসকারী ও ব্যবসায়ীরা। কলকাতা পুরসভার উচ্ছেদ নোটিসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। পুরসভা শহরের ‘শ্রী’ ফেরাতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী শনি ও রবিবার থেকে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এই আশঙ্কায় বন্ডেলগেট, ঢাকুরিয়া-বিজন সেতু, অরবিন্দ সেতুর মতো পুরনো সেতুগুলির নিচের বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই তাঁদের মালপত্র সরাতে শুরু করেছেন। খাটালের গরু-মোষ লরিতে চাপিয়ে জয়নগর-হাবড়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নিচে বসবাসকারী এই মানুষগুলির দাবি, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। তাঁদের অনেকেরই ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় পুনর্বাসনের সুযোগ আরও সীমিত। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। অভিযোগ, বিজেপি বা তৃণমূল, কেউই তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের নীরবতা তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে।
শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর সরকারি উদ্দেশ্যকে স্বাগত জানালেও, মানবিকতার খাতিরে পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা এই মানুষগুলি। তাঁদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ করে তাঁদের আশ্রয়হীন করা হলে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই আদালত ছাড়া তাঁদের আর কোনো গতি নেই। এই আইনি লড়াইয়ে যদি কোনো সুরাহা মেলে, সেই আশায় বুক বাঁধছেন উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা এই মানুষগুলি।








