ভারত সফর শেষে দেশে ফিরলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভারত সফর শেষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা। মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা, একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩ জুলাই ২০২৬ঃ তিন দিনের সফল ভারত সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফিরলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই সফরে ভারত ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিদায়কালে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ জানান, ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে।

১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত এই সফরে সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভারত সফর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন। সেখানে দুই নেতা ভারত-জাপান সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আন্তরিক আলোচনা করেন, যা ব্যক্তিগত পর্যায়ে পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে সাহায্য করেছে। সানায়ে তাকাইচি মোদির উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ব্যক্ত করেন।

হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি স্থিতিশীলতা, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করা হয়। এছাড়া, আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য যৌথ কর্মসূচির তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নেন, যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।