ব্যুরো নিউজ, ৬ জুলাই ২০২৬ : বারুইপুরের ১১ বছরের নাবালিকা খুনের ঘটনায় সামনে এল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট, যা তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নাবালিকার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে এবং প্রাথমিক ইঙ্গিতে যৌন নির্যাতনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অচেতন অবস্থায় পুকুরে ফেলার সময়ও তার দেহে প্রাণ ছিল। ফুসফুস ও পাকস্থলীতে জল মেলায় ‘অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিং’-এর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধর্ষণ, গণধর্ষণ, খুন, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারার পাশাপাশি পকসো আইনের কড়া বিধান যুক্ত করেছে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের তথ্য মিলিয়ে প্রতিটি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ জোরকদমে চলছে। গত শনিবার বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ওই নাবালিকা। পরদিন সকালে ধবধবি ও সূর্যপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ দেখায়। এক সন্দেহভাজনকে গণপিটুনিতেও মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও দেখা করবেন। নিখোঁজ ডায়েরির পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








