ব্যুরো নিউজ, ৭ জুলাই ২০২৬ : ওয়াশিংটন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতবিরোধ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হয়েছে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন। দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ৩২টি সদস্য দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন, যেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিরও উপস্থিত থাকার কথা।
এই শীর্ষ সম্মেলন জোটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাটোর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল আমেরিকার অবস্থান। ওয়াশিংটন ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলিকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়ভার নিজেদেরকেই বহন করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এটি ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ তারা দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন সামরিক ছাতার নিচে সুরক্ষিত ছিল। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিতেও অস্বস্তিতে রয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলি। ন্যাটোর নেতৃত্ব চাইছে সদস্য দেশগুলি তাদের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করুক এবং অস্ত্র উৎপাদন বাড়াক। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়ে সম্প্রতি ন্যাটো সদস্যরা সমর্থন জানালেও, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য পূরণে সব দেশ এখনও সহমত নয়।
সামরিক খাতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় এবং অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ন্যাটোর আহ্বান অনেক সদস্য দেশের কাছে আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আঙ্কারার এই বৈঠক কি জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটল মেরামত করে সমাধানের পথ দেখাবে, নাকি মতানৈক্য আরও স্পষ্ট হয়ে জোটের সংহতিকে আরও দুর্বল করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








