ভারত-ইন্দোনেশিয়া চুক্তি: মালাক্কা প্রণালীর মুখে কৌশলগত সাবাং বন্দরের উন্নয়নে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

ভারত ও ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালীর মুখে সাবাং বন্দরের উন্নয়নে ঐতিহাসিক চুক্তি করল। এটি ভারতের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করবে ও ভারত মহাসাগরে চীনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ জুলাই ২০২৬: ভারত মহাসাগরে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করতে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। এই চুক্তির আওতায় মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশপথে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরের যৌথ উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা হবে। ইরান-মার্কিন সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব বিশ্ব অনুধাবন করেছিল; এবার ভারত নিজস্ব ‘হরমুজ’ তৈরির পথে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সাবাং বন্দরটি ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ইন্দিরা পয়েন্ট থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে অবস্থিত, যা এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্বের ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য মালাক্কা প্রণালী দিয়েই সম্পন্ন হয়, যা ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযুক্ত করে। ভারতের জন্য এটি একটি ‘লাইফলাইন’ হিসেবে বিবেচিত, কারণ কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বাণিজ্য এই পথেই চলে। এই পদক্ষেপ ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র অধীনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংযোগ স্থাপনেও সাবাং বন্দরের উন্নয়ন সহায়ক হবে। শুধু বন্দর উন্নয়ন নয়, দুই দেশ ব্রাহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়, ইউপিআই পেমেন্ট সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য ডিজিটাল কর্মসূচিতেও সহযোগিতা করবে। এই চুক্তি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।