ব্যুরো নিউজ, ৮ জুলাই ২০২৬ : গত ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ১৬ জন নিরীহ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কলকাতা পুরসভার (KMC) অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে যে, সমস্ত নিয়মকানুন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বিপজ্জনক বহুতলটির নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। এই বিপর্যয়ের তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোচ্ছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, যেকোনও বড় নির্মাণকাজের আগে বাধ্যতামূলক মাটির ধারণক্ষমতা পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টের রিপোর্ট পুরসভায় জমা দেওয়া হয়নি। এখানেই শেষ নয়, নির্মাণ চলাকালীন যে স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের ব্লু প্রিন্ট থাকা আবশ্যক, তাও নথিপত্র থেকে গায়েব ছিল। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ কারিগরি যাচাই ছাড়াই তৈরি হচ্ছিল এই মরণফাঁদ। পরবর্তীকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনাস্থল ও কাঠামোটি প্রাথমিক পরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে, বহুতলটির মূল নকশাতেই একাধিক মারাত্মক গলদ ও ত্রুটি ছিল। এই অনিয়মের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তির প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তৎকালীন ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। প্রভাব খাটিয়ে, টাকার বিনিময়ে তিনি এই অনুমোদন পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত কালীচরণকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, গত আট বছর ধরে কালীচরণ একচ্ছত্র ক্ষমতা চালিয়ে বহু বেআইনি নির্মাণকে ছাড়পত্র দিয়েছেন।
এই ভয়াবহ কাণ্ডের পর পুরসভার সৎ আধিকারিকদের একাংশ মনে করছেন, শুধু তারাতলার গোডাউন নয়, কালীচরণের কার্যকালে অনুমোদিত অন্যান্য বড় আবাসন বা বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলিও নতুন করে প্রশাসনিক ও কারিগরি স্ক্রুটিনির আওতায় আনা উচিত। শহরের বুকে আরও কত এমন মরণফাঁদ লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।








