ব্যুরো নিউজ, ৯ জুলাই ২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই ইরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালাল আমেরিকা। বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতি জারি করে এই অভিযানের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছিল ইরান, যার প্রেক্ষিতে আমেরিকার সেনা তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই হামলার পর তেহরান ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় পালটা হুমকি দিয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দেশটির দক্ষিণ উপকূলে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বুশেহর, যেখানে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। এছাড়াও দক্ষিণের বন্দরনগরী চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানশাহরের একটি বিমানঘাঁটিও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডও ব্যবহার করত। এই হামলাগুলি ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই হামলায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। মার্কিন অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা চিন্তিত। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।








