বন্যা মোকাবিলায় মালদার স্বাস্থ্যকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক পরিষেবা, আন্তর্জাতিক জার্নালে স্বীকৃতি

মালদার মানিকচক ব্লকের স্বাস্থ্যকর্মীরা বন্যাকবলিত এলাকায় যে ‘মডেল’ চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থার জার্নালে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই দৃষ্টান্ত দেশের অন্যান্য বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য অনুপ্রেরণা।

Share:

ব্যুরো নিউজ ৯ জুলাই ২০২৬: বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। জমা জল থেকে সংক্রমণ, ডায়েরিয়া, জ্বর এবং সাপের উপদ্রব — এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও মালদার মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের সুপরিকল্পিত চিকিৎসা পরিষেবা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থার জার্নালে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই খবরে আপ্লুত জেলার স্বাস্থ্যকর্মীরা।

২০২৪ এবং ২০২৫ সালে টানা দু’বছর মালদার মানিকচক ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষত ভূতনি চরের লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানিকচক ব্লক স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্ত স্তরের কর্মীরা নিরলস ভাবে কাজ করে গিয়েছেন। চিকিৎসক ডাঃ অভিক শঙ্কর কুমার জানান, এই দু’বছরে ৮ হাজারের বেশি ক্যাম্প, অস্থায়ী হাসপাতাল, ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় ব্লিচিং ছড়ানো এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ফলে এই দুই বছরে বন্যায় অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় নগণ্য। বড় কোনও বিপদ ঘটেনি বলেই তিনি উল্লেখ করেন। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশে ছিল।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সাইন্টিফিক রিসার্চ সংস্থা মালদার স্বাস্থ্যকর্মীদের এই অক্লান্ত পরিশ্রমকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাঁদের জার্নালে এই ‘মডেল’ পরিষেবা তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা মনে করছেন, এই দৃষ্টান্ত দেশের বা বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের বন্যা পরিস্থিতিতে কাজে লাগানো যেতে পারে, যা তাঁদের পরিশ্রমকে সার্থক করবে।