বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটিতে হাতির তাণ্ডব, চরম আতঙ্কে এলাকাবাসী

বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটিতে বুনো হাতির তাণ্ডব। গভীর রাতে লোকালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও ফসলের ক্ষতি। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১০ জুলাই ২০২৬ঃ বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে দু’টি বুনো হাতির অবাধ বিচরণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাতবিরেতে লোকালয়ে হাতির দল ঢুকে পড়ায় ঘুম ছুটেছে সাধারণ মানুষের। কখনও জাতীয় সড়কের উপর, আবার কখনও গভীর রাতে জনবহুল বিভিন্ন পাড়ায় ঢুকে পড়ছে এই বুনো হাতিগুলি। এর ফলে সাধারণ বাসিন্দারা, বিশেষত প্রাতঃভ্রমণকারীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে গভীর রাতে এই হাতি দু’টি গঙ্গাজলঘাটি শহর এলাকায় প্রবেশ করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গঙ্গাজলঘাটির হাসপাতাল কলোনিতে ঢুকে একটি গৃহস্থের বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং বাড়ির উঠোনে থাকা একাধিক কাঁঠাল খেয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। হাসপাতাল কলোনিতে বহু মানুষের বসবাস। রাতের অন্ধকারে হাতির এমন আকস্মিক প্রবেশে তাঁরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আতঙ্কিত বাসিন্দারা দ্রুত নিজেদের ঘরবন্দি করে ফেলেন এবং বনদপ্তরকে খবর দেন। শুধু হাসপাতাল কলোনিই নয়, একই রাতে হাতি দু’টি গঙ্গাজলঘাটি বাজার এলাকাতেও ঢুকে পড়েছিল। বাজার সংলগ্ন এলাকায় হাতির চলাচলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে হাতি দু’টি একই ভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়লেও, এখনও পর্যন্ত বনদপ্তরের পক্ষ থেকে স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

এলাকাবাসীর দাবি, বনদপ্তর অবিলম্বে হাতি দু’টির গতিবিধির উপর কড়া নজরদারি চালিয়ে নিরাপদ উপায়ে তাদের লোকালয় থেকে সরিয়ে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। তাঁদের আশঙ্কা, এ ভাবে গভীর রাতে বারবার জনবসতিতে হাতির প্রবেশ অব্যাহত থাকলে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় বিপদ অবশ্যম্ভাবী।