ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি: দেশের অর্থনীতিতে নবদিগন্ত, শিল্প-কৃষি সহ সব ক্ষেত্রে সুফল

ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (CETA) কার্যকর। ১৫ জুলাই থেকে ভারতীয় পণ্য যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত। অর্থনীতিতে নবজোয়ার, কৃষক-শিল্পপতি সহ সব ক্ষেত্রে সুফল।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৫ জুলাই ২০২৬ :  থেকে কার্যকর হল ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বা ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (CETA)। এই যুগান্তকারী চুক্তির ফলে ভারতের প্রায় সমস্ত রফতানি পণ্য যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই চুক্তিকে ‘দখিন হাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এটি দেশের শিল্পক্ষেত্রে নবজোয়ার আনবে। তাঁর মতে, CETA কৃষক, মৎস্যজীবী, শ্রমিক, মহিলা উদ্যোগপতি, পেশাজীবী এবং তরুণ প্রজন্মকে বিশেষভাবে ক্ষমতায়িত করবে। এই চুক্তি দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি ভারতীয়কে স্পর্শ করবে এবং তাঁদের জন্য নতুন সুযোগের সৃষ্টি করবে। চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উদ্ভাবক এবং শ্রমনিবিড় শিল্পগুলিতে বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। বস্ত্র, চামড়া, গয়না, কৃষি পণ্য এবং অটোমোবাইল সহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এর ফলে দেশের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে। বিশেষ করে, ভারতের সেবা খাতও এই চুক্তি থেকে উপকৃত হবে, যা পেশাজীবীদের জন্য নতুন দ্বার খুলে দেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ২৫ জুলাই,

২০২৫-এ লন্ডনে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি কেবল বাণিজ্য সম্পর্কই জোরদার করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে, CETA ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের বিভিন্ন সেক্টরে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।