মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক: পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবিতে সরব বিরোধীরা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক তোলপাড়। অসাংবিধানিক আচরণের অভিযোগে সরব বিরোধীরা, পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি। কমিশন উড়িয়ে দিল অভিযোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। অসাংবিধানিক ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগে সরব হয়েছেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও একধাপ এগিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি বিজেপির প্রতিনিধি বলে আক্রমণ করেছেন। বিরোধীদের একাংশ তাঁর গ্রেফতারেরও দাবি তুলেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, “স্পষ্ট হয়ে গেল, জ্ঞানেশ কুমার অসভ্যের মতো চলেছেন, অসাংবিধানিকভাবে চলেছেন। অবিলম্বে তাঁকে খারিজ করা উচিত।” তাঁর অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষে থেকে জ্ঞানেশ কুমার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালও নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। অধীর চৌধুরী তোপ দেগে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে।” যদিও বিরোধীরা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ঘটনার উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, এসআইআর এবং নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কমিশনের ভূমিকা ঘিরে এই বিতর্ক। তবে নির্বাচন কমিশন সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, “সবটাই বিরোধীদের রটনা। এরকম কিছুই ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই কাজ করছে।”

কমিশন আরও জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার একজন অভিজ্ঞ আমলা এবং তিনি নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করেননি। বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যের নির্বাচনের আগে কমিশনকে নিশানা করা বিরোধীদের কৌশল।