ব্যুরো নিউজ , ১৬ জুলাই ২০২৬ : পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়িতে গড়ে উঠতে চলেছে এক অভিনব ‘ট্রাইবাল মডেল ভিলেজ’। আদিবাসী জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে বেলপাহাড়ি পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন আকর্ষণ হিসেবে উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এই মডেল ভিলেজে পর্যটকরা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী মাটির বাড়িতে থাকার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন। প্রতিটি বাড়ির দেওয়ালে থাকবে আদিবাসী চিত্রকলা। আদিবাসী সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে একটি বিশেষ মিউজিয়ামও তৈরি করা হবে। এছাড়াও, বাবুই ঘাস, সবাই ঘাস এবং পাথর দিয়ে তৈরি আদিবাসীদের হস্তশিল্প সামগ্রীর বিপণন কেন্দ্রও থাকবে। পর্যটকদের জন্য আদিবাসী খাবারের এক বিশেষ মেনুও তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকবে কুরকুটের চাটনি, কুরকুটের ডিমের অমলেট, শালপোড়া চিকেন, বাম্বু চিকেন এবং মাংস পিঠের মতো ঐতিহ্যবাহী পদ। পান্তাভাতও মেনুতে যোগ করা হবে। দার্জিলিং বা সিকিমের মতো এখানেও পর্যটকরা আদিবাসী মহিলাদের পাঞ্চি শাড়ি এবং পুরুষদের গান্দো ধুতি পরে ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার জেলার পর্যটন উন্নয়নে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক রাজেশ মাহাতো, বিনপুরের বিধায়ক প্রণত টুডু, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ, জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং পর্যটন ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। ঝাড়গ্রামকে পর্যটনের মানচিত্রে ঢেলে সাজার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে। এই মডেল ভিলেজ আদিবাসী সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।








